মোঃ আক্তার হোসেনঃ দীর্ঘ দুই যোগেরও বেশি সময় ধরে ভূমি সেবার নামে অনিয়ম ও দূর্নীতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা এমনই অভিযোগ পাওয়া গেছে সিলেট জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের ভারপ্রাপ্ত পেশকার আবুল খায়ের (যাচ মোহরা) এর বিরুদ্ধে। একের পর ভূমি জালিয়াতি, পর্চা, রেকর্ড, দলিল সংযোজন/বিয়োজনসহ পাহাড় পরিমাণ অভিযোগের তীর এখন জোনাল অফিসের এই কর্মচারীর বিরুদ্ধে। সিলেটের জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসারসহ একাধিক কর্মকর্তার কাছে আবুল খায়েরের অপকর্মের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়ার পরেও কোন সুরাহা না হওয়ায় অবশেষে গত ২5 জুলাই ২৩ ইং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবরে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার প্রায় অর্ধ শতাধিক ভুক্তভোগী লোকের গণস্বাক্ষর সংবলিত একটি অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
পাঠকের সুবিধার্থে প্রেরিত অভিযোগের সারসংক্ষেপ হুবহু তুলে ধরা হলো "আমরা নিম্ন স্বাক্ষরকারীগণ সিলেট জোনের অন্তর্গত গোলাপগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন মৌজার ভূ-মালিক বটে। আমরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মৌজার মাঠ পর্চা, সার্টিফাই পর্চা ও ৩০ ধারা, ৩১ ধারার জাবেদা নকল আনার জন্য সিলেট জোনাল অফিসে গেলে দায়িত্বপ্রাপ্ত পেসকার আবুল খায়ের বিভিন্ন আইনের দোহাই দিয়ে আমাদেরকে একেক দিন একেক ধরনের আইনে আবেদন করতে বলেন। আর তাই আমরা তাহার কথামত পর্চা, জাবেদা নকল তুলতে বাধ্য হই। এখানে আমরা অনেকেই অফিসের সকল নিয়ম কানুন জানিনা বিধায় উনাদের কথায় বাধ্য হয়ে আবেদন করি। আবেদন করলে আমাদেরকে সম্ভাব্য তারিখ দিয়ে দেয়। কিন্তু, উক্ত তারিখে অফিসে গেলে নকল বা পর্চা ডেলিভারি না দিয়ে আবারো তারিখ দিয়ে বলে আগামী সপ্তাহে আসেন। এভাবে সপ্তাহের পর সপ্তাহ চলে যায় অবশেষে আমরা ক্লান্ত হয়ে কিছু টাকা উৎকোচ বেশি দিয়ে হলেও কাগজ পত্র নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করি।
আর এই সুযোগে তিনি অসহায় লোকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন হাজার হাজার টাকা। এখানে রয়েছে তাহার বিরাট সিন্ডিকেট। আর থাকবেই না কেন উনি সিলেট জোনে প্রায় দীর্ঘ দুই যুগের বেশি সময় ধরে কর্মরত আছেন।তাছাড়া উনার সিন্ডিকেটের প্রধান মূল হোতা মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার নাইট গার্ড মুহাম্মদ (হাবিব), রেকর্ড কিপার বাণী চক্রবর্তী সহ আরো অনেকে। এখানে মূল হোতা হিসেবে হাবিব কে ব্যবহার করা হয়। হাবিবের মাধ্যমে উনি বিভিন্ন লোককে বিভিন্ন জায়গাতে পর্চা ডেলিভারি দিয়ে থাকেন।
এছাড়াও কখনও কখনও যাঁচ (মোহরা) ভারপ্রাপ্ত পেশকার আবুল খায়ের প্রতিদিন বিকাল থেকে শুরু করে সিলেট সিটির অলিগলিতে নিজেও পর্চা ডেলিভারি করে থাকেন।
শুধু গোলাপগঞ্জবাসী নয় তাদের সিন্ডিকেটের হয়রানির স্বীকার সিলেট জোনের অধিকাংশ ভূমি মালিক। কারণ ঐ অফিসের বড় বাবু থেকে ছোট বাবু পর্যন্ত দেওয়া হয় নাকী সাপ্তাহিক চাঁদা- আবুল খায়েরের ভাষ্যমতে। বারবার জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসারের কাছে বিভিন্ন সময় মৌখিক অভিযোগ দিলেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি।তাছাড়া বিগত দিনে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় ২০২২/২৩ সালে আবুল খায়ের (যাচ মোহরা) ভারপ্রাপ্ত পেশকার ও আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে সাংবাদিক সম্মেলন সহ সিলেটের স্থানীয় পত্র পত্রিকায় ওদের ব্যাপারে লেখালেখি হয়েছে। কর্তৃপক্ষ এদের ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেয়নি। এখানে উল্লেখ্য যে, পেশকারের পদটি (রেকর্ড কিপারের দায়িত্ব)। কিন্তু, অদৃশ্য ক্ষমতার বলে এখানে আবুল খায়ের কে দিয়ে সেই দায়িত্ব পালন করানো হচ্ছে। কিন্তু একাধিক অভিযোগের পরেও কোন অদৃশ্য খুঁটির জোরে বহাল তবিয়তে থেকে জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে অনিয়ম ও দূর্নীতির রাম রাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছেন আবুল খায়ের এটা জানতে চায় সিলেটের আপামর জনতা।
উক্ত অভিযোগপত্রে আরো উল্লেখ করা হয় যে, রেকর্ড কিপারেরা বিভিন্ন থানাতে পড়ে আছেন কিন্তু এখান অদৃশ্য ক্ষমতার বলে আবুল খায়ের ক্ষমতার অপব্যবহার করে যাচ্ছেন। উক্ত আবুল খায়ের সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় কর্মরত থাকাকালীন ৩০ ধারা, ৩১ ধারা বিভিন্ন আপিল আপত্তি মামলার রায় পরিবর্তনের জন্য তৎকালীন মহা পরিচালক তাহার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে বিভাগীয় মামলা রুজু করার আদেশ দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয় ছাতক উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসে কর্মরত থাকাকালীন অগ্নিকান্ডের জন্য আবুল খায়েরর বিরাট গাফিলতি দায়ী। এছাড়া বিয়ানী বাজার কর্মরত থাকাকালীনও এমন অভিযোগ ছিলো অহরহ। তাহার এমন কর্মকান্ডে যেখানে জোন বদলী হওয়ার কথা সেখানে তিনি (যাঁচ মোহরা) হয়ে রেকর্ড রুমের দায়িত্ব পালন করছেন। তাও সিলেট জোনের মতো গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড রুমে কোন এমন অদৃশ্য ক্ষমতার বলে তিনি সবকিছু থেকে পার পেয়ে যান। এই প্রশ্ন এখন সিলেট বাসীর।
অবশেষে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলাসহ সচেতন মহলের একটাই দাবি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দূর্নীতিবাজ (যাঁচ মোহরা) নামের পেশকার ব্যবহার করা আবুল খায়েরর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে সিলেট জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে উক্ত পদে একজন বিজ্ঞ ও ন্যায়পরায়ন রেকর্ড কিপারকে নিয়োগ দিলে সিলেট জোনের বিভন্ন ভূ-মালিকগন দূর্নীতি, অনিয়ম ও হয়রানি থেকে অবসান পাইবে বলে মনে করেন সিলেটের সচেতন নাগরিক
1 মন্তব্যসমূহ
সুন্দর৷
উত্তরমুছুন